Translate

বৃহস্পতিবার, ৩১ মে, ২০১৮

প্রতিবাদের আলো

   

আসছে "দশে দশ" গল্প সংকলন

এই সংকলনের তৃতীয় গল্প "প্রতিবাদের আলো"-র কিছু অংশ 

......রাত তখন কত কে জানে। ঘড়ি তো নাই। ক্রাসিনের স্টোভে ভাত চড়ায়েচেলাম, সঙ্গে দুটা আলু পটলদেওয়ালের ফাঁক ফোকরে আসা হাওয়ায় সে ইস্টোভের আগুনও সেদিন নির্জীবের মতো ভিতু ভিতু। তবু ফুটতেচিল – চাল ফুটে ভাত হওয়ার সময় বাবু – হাঁড়িও খুব কথা কয়। লক্ষ্য করেচেন কি বাবু। সে অনেক কথা। খিদের কথা। তৃপ্তির কথা। ভালোবাসার কথা। খিদের মুখে দুটো অন্নর মতো ভালোবাসা জীবকে আর কে দেয়, কন তো বাবু? আমি বেশ বুঝতে পারি – ওদের কথা। ওদের ঘ্রাণ। আমি খাটিয়ায় বসে, একমনে তাদের কথা শুনতেচিলাম আর দেখতেচেলাম ইস্টোভে নীল আগুনের কাঁপা কাঁপা শিখা। মনের অন্দরে ছিলেন রাধামাদব আর তাঁর অনন্ত লীলা। বাইরে তখন অশৈলী তাণ্ডব আর ঘরে চলতিচে অন্নের যোগাড়, এ কি রাধামাদবের লীলা নয়, কি বলেন বাবু?
সেই সময়ে ঝাঁপ পড়া দরজায় আওয়াজ উঠল ঝমঝমিয়ে। প্রথমটায় বুজিনি বাবু ভেবেচেলাম ঝড়ের বাতাসে অমন হচ্চেবেশ অনেকক্ষণ পর কান করে যেন শুনতে পেলাম এক মেয়েমানুষের গলা – কেউ আচো, খোল না – দোরটা খোলো না একটিবার। আর তার সঙ্গে ঝমঝম দরজা ঝাঁকানোর আওয়াজ। মনে হল ভুল শোনলাম। এই দুর্যোগের রাত্রে কে আমার এই দোকানে আসতে যাবে। ভয় হল। অশরীরি কেউ নয়তো – শুনেচি এমনি রাতেই তাঁদের আনাগোনা বাড়ে। আবার মনে হল তেনাদের কাছে আমার ওই পলকা দোর কিসেরই বা বাধা? তেনাদের ইচ্চে হলে, অমনিই তো আসতে পারেন। রাধামাদব শক্তি দিলেন, বিবেক দিলেন। দোরটা খুললাম। দামাল ঝোড়ো হাওয়া আর তুমুল বিষ্টির ঝাপটার সঙ্গে ঘরে এসে ঢুকে পড়ল একজন মেয়েমানুষ। এক ঝলক দেখার পর সব অন্ধকার – ঝোড়ো হাওয়ায় আমার ঘরে জ্বলতে থাকা কুপিটা তখন নিভে গেচে
ঝাঁপ বন্ধ করে, দেশলাই খুঁজে আবার কুপিটা জ্বালালাম আর তার আলোয় দেখলাম সেই মেয়েরেমাথা থেকে পা অব্দি ভিজে সপসপ করচে, পরনের কাপড় চুপ্পুরি ভেজা আর কাদামাখা। মাটিতে শুয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্চে সেই মেয়ে – তার পায়ের তলার মাটি ভেসে যাচ্চে জলে আর রক্তে। মেয়েটি বাবু ভরা পোয়াতি। আমি দৌড়ে গিয়ে ভাতের হাঁড়ি নামিয়ে ইস্টোভে জল চাপায়ে দিলামএই অসময়ে কার কাচে যাবো, এ অবস্থার মেয়েটারে নিয়েই বা এখন কি করব ভাবতেচেলাম, আর অপেক্ষা করতেচেলাম জল গরমের, ততক্ষণে শুনতে পেলাম বাবু কচি শিশুর কান্না। সেকি জোর বাবু তার গলার। বাইরের এত ঝড়ের গর্জন, বিষ্টির মাতন - সব ছাপিয়ে জেগে উঠল তার কান্না। এ নতুন জেবনের কান্না, তাকে আটকায় এমন সাধ্যি কার। কোনদিন, বাবু, সংসার ধর্ম করি নাই, রাধামাদবের নাম নিয়েই দিব্বি কাল কাটাইতেচেলাম, সেই আমার কাচেই কিনা এসে জুটল এমন ঝক্কি? এমন খেলা রাধামাদব ছাড়া, আর কেই বা খেলতে পারেন বলেন দিকি।
পেথমেই বাচ্চাটার নাড়ি কেটে মুক্ত করে দেলাম তার মায়ের বাঁধন। তারপর গরমজলে সাফসুতরো করে আমার পুরোনো ধুতির পুঁটলিতে জড়িয়ে ফেললাম তাকেএতক্ষণ তার মাকে লক্ষ্য করি নাই, এখন মায়ের কোলে বাচ্চারে তুলে দিতে গিয়ে দেখি মায়ের অবস্থা সঙ্গীণ। বাচ্চারে কোলে নিতে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে্চিল একবার – কিন্তু পারল না। তার চোখের দৃষ্টি তখন থির, চোকের কোলে জমে উঠেচে জল, কিন্তু তার ফ্যাকাসে ঠোঁটের কোণায় হাসির রেখা। বাচ্চার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই তার চোখ বুজে এল বাবু, আর সে চোখ মেলল না।
আচ্ছা, রাধামাদবের এ কেমন লীলা আপনি আমারে বোজান দেকিআমি কথা বলার জন্যি মানুষ খুঁজতেচিলাম, তা না হয় সত্যি, তাই বলে এমন মানুষ। চেনা নাই, জানা নাই। কোথায় বাড়ি, কাদের মেয়ে। না আমি জানি তার কিছু, না সে আমারে জানে। অথচ দেখেন, সে চলে গেল আমার হাতে এই টুকুন এক জেবন গচ্ছিত রেখে? আমার চাল নাই চুলা নাই, রাধামাদবের ইচ্চেয় আমার দিন চলে যায় কোনমতে, সেখানে একি বিপদ কন দিকিআজ রাতটুকুন হয়তো কোন পেকারে চলে যাবে – কিন্তু কাল সকালে? লোক আচে, জন আচে, থানা আচে, পুলিশ আচে – তা্রা কি আমারে ছেড়ে দিবে? কি করব কিছুই যখন ভেবে কূল করতে পারতেচি না, আমার কোলের পুঁটলিতে ওই মেয়ে কথা কয়ে উঠল। কি কথা কে জানে – শিশুর ভাষা বোঝার সাধ্যি তো আমার নাই বাবু। আমি ওর মুখের দিকে চাইলাম – দেখি আমার দিকেই তাকিয়ে আচে টালুক টালুক চোখে – সে দৃষ্টিতে কি যে ছেল বাবু, বলতে পারব নি। ভরসা ছেল। বিশ্বাস ছেল। সদ্যজাত শিশু আরেকজন মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে কিসের সন্ধান করে? বাঁচার পেত্যয় ছাড়া? বড়ো মায়া হল বাবু, অর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে, অরে আরো জোরে চেপে ধরলাম বুকে। অর ওই ছোট্ট বুকের ধুকধুকুনি আমার বুকে এসে বাজতে থাকল, বাবু। আমি রাধামাদবকে বললাম, এ আমার কি করলে ঠাকুর, আমারে এ কি মায়ার বাঁধনে বেঁধে দিলে অচেনা অজানা কার এক শিশুর সঙ্গে?...



"দশে দশ" হাতে পেতে হলে চোখ রাখুন এই লিংকে - আসছে খুব তাড়াতাড়ি 


স্তন্যডায়িনী

এই লিংকে ক্লিক করলে বাড়ি বসে পেয়ে যাবেন, "দশে দশ" গল্প সংকলন। 

http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%a6%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%b6/?fbclid=IwAR08yJhrMXE6sQy01kjitrsscUDnSsmbjMU3KaN7ve2CE_T9age-wWiiX08

এই সংকলনের নবম গল্প "স্তন্যদায়িনী"-র কিছু অংশ 



....বাসন্তীদি ঠিকাদার আলির কাছে নিয়ে গেল, বলল – ও আলি মিয়া, এই লাও এই মেয়েটাও কাজ করবে...। আলি মিয়ার মুখ ভর্তি গুটখার থুথু। আকাশপানে মুখ তুলে কি যে বলল – ঠাহর করা গেল না। বাসন্তীদি বললে আ মোলো যা, মুখের ওই কাচড়া ফেলো দিকি, কি যে কতা বলো বো বো বো করে - কিচুই বোঝা যায় না। আলি মিয়া মুখের ভেতর জমানো, বালতি খানেক থুথু উগরে দিয়ে খ্যাঁ খ্যাঁ করে হাসলে। তারপর খুব রসিক চোখে বাসন্তীদির দিকে তাকিয়ে, মিচকে হেসে  বললে – কি কতা শুনবি রে, বাসন্তী – মনের কতা না প্রাণের কতা? মরণ আর কি, কত ঢং...লাও, লাও ওর সংগে কতা কয়ে লাও। আলি মিয়া এবার চোখ ফেরাল মালতীর দিকে।

হাড়গিলের মতো শুঁটকে চেহারা। বগলে আবার একখানা ভূতের মতো ছানা। মাথাটা হেঁড়ে। পেটটা ড্যাগরা। হাত পা গুলো কাটি কাটি। সেই থেকে নাগাড়ে ককিয়ে চলেছে কাকের মতো। দেখেই আলি মিয়ার মেজাজটা বিগড়ে গেল। এ দিয়ে তার কোন কাজই চলবে না। ও পারবেই না মাথায় ঢালাইয়ের তাগাড়ি বইতে দু তাগাড়ি মাল তুলেই হ্যা হ্যা করে হাঁপাবে। ওর মধ্যে আর জোয়ানি নেই রে, বাসন্তী। বাসন্তীর দিকে তাকিয়ে এক চোখ বন্ধ করে আবার খ্যাঁ খ্যাঁ করে হাসল। সে না পারুক, অন্য কত কাজ তো রয়েছে, ও মিয়া। লাগিয়ে দাও না কিচু একটাতে। আলি উঠে দাঁড়াল – জোর হাঁক পাড়ল – সকলের উদ্দেশে - সাতটা বেজে গেচে কখন, একনো সব গুলতানি করছিস কখন শুরু হবে রে ঢালাই? এই কাশেম বেলচা ধর – বাসন্তী তোর মেয়েছেলেদের বল তাগাড়ি ধরতে।

উইঞ্চ মেসিনে গুড় গুড় করে উঠে আসছে ঢালাই। রডের জালির ওপর কাঠের তক্তা পেতে প্ল্যাটফর্ম বানানো হয়েছে দু জায়গায়। উইঞ্চ থেকে তরল ঢালাই হড়াৎ করে নেমে আসছে প্ল্যাটফর্মে। দুপাশে বেলচা ধরে আছে দুটো লোক। এক তাগাড়িতে এক বেলচা মাল তুলে দিচ্ছে, আর সেটা মাথায় নিয়ে মেয়েগুলো চলে যাচ্ছে ছাদের অন্য প্রান্তে। ঝড়াস করে ঢেলে তাগাড়ি খালি করে দিচ্ছে ঠিক জায়গায়। ও প্রান্তে আছে মিস্তিরি – সে দেখিয়ে দিচ্ছে কোথায় কখন ঢালতে হবে – এই কাজ। কিছুই না। এক ঘেয়ে। এক টানা। পিঁপড়ের সারির মতো অবিরাম বয়ে চলা ঢালাই ভরা তাগাড়ি। এক সারি চলছে তাগাড়ি ভরা ঢালাই নিয়ে, আরেক সারি খালি তাগাড়ি নিয়ে আসছে ঢালাই ভরে নেওয়ার জন্যে। পায়ের তলায় রডের জালি, তার ওপর দিয়ে চপ্পল পায়ে হাঁটাটাই যা একটু শক্ত। জালি গুলো হাঁটার সময় বসে যায়। জালির ফাঁকে পা আটকে গেলে তাগাড়ি সমেত মুখ থুবড়ে পড়তে হবে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল মালতী। মেয়েকে কোলে নিয়ে মালতী দাঁড়িয়েই ছিল, তাকে আলি মিয়া হ্যাঁ ও বলে নি, না ও বলে নি। বাসন্তীদি কাজে লাগার আগে বলে গেছে দাঁড়াতে – একটা কিছু ঠিক হয়ে যাবে।

শুরুটা করতে যা একটু ঝকমারি, শুরু হয়ে গেলে ঠিক চলতে থাকে। আধা ঘন্টার মধ্যেই ঢালাইয়ের প্রক্রিয়া চলে এল বাঁধা ধরা ছন্দে, নিশ্চিন্ত মনে একধারে এসে দাঁড়াল আলি মিয়া – এক প্যাকেট গুটখা আর সঙ্গে জর্দার একটা প্যাকেট উপুড় করে দিল মুখের ভেতর – তারপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করতে লাগল – কাজের ধরনধারণ। মালতী পায়ে পায়ে আলি মিয়ার কাছে গেল। কিচু কাজ দেন না, অ বাবু? আলি মিয়া এতক্ষণ ভুলেই গিয়েছিল, মালতীকে দেখে মনে পড়ল – কি কাজ তরে দি বল দিকি। এক কাজ কর নীচে যা আজ সব মিলে শ’ দেড়েক লোক খাবে তাদের রান্নার যোগাড়ে তুই যা। ধোয়া মোচা। বাঁটা বাঁটি, কাটা কুটি – পারবি তো? রশিদ আছে তারে গিয়ে বল – আমি পেটিয়েচি। সে দেকিয়ে দেবে। কত দেবে বাবু? অ্যাঃ কত আর দেব তোকে – পঞ্চাশ দেব যাঃ, আর দুপুরের খাওয়া...যাঃ।


এই লিংকে ক্লিক করলে বাড়ি বসে পেয়ে যাবেন, "দশে দশ" গল্প সংকলন। 

http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%a6%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%b6/?fbclid=IwAR08yJhrMXE6sQy01kjitrsscUDnSsmbjMU3KaN7ve2CE_T9age-wWiiX08


      
                    
         
          

দিদিভাই, বাড়ি যান


এই লিংকে ক্লিক করলে বাড়ি বসে পেয়ে যাবেন, "দশে দশ" গল্প সংকলন। 

http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%a6%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%b6/?fbclid=IwAR08yJhrMXE6sQy01kjitrsscUDnSsmbjMU3KaN7ve2CE_T9age-wWiiX08


এই সংকলনের পঞ্চম গল্প "দিদিভাই, বাড়ি যান"-এর কিছু অংশ 




.....মার্ডারের থেকেও কাজের জিনিষ হচ্ছে, ভয় এক পিস মার্ডার হয়ে গেছে। এলাকার মানুষজন ভয় পেয়েছে। আরও একটা মার্ডার করলেই কী পাবলিকের মনে ভয় বাড়বে? বাড়তে পারে, নাও বাড়তে পারে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে, পাবলিক হয়তো এমন ক্ষেপে উঠলো, তোদের ধরার জন্যে, পুলিশকেই চাপে ফেলে দিলতখন কেসটা বহুত কিচাইন হয়ে যাবে, সামলানো যাবে না। এলাকার পাবলিকের মনে একবার সন্ত্রাস আর আতঙ্ক ঢুকিয়ে দিতে পারলে, তোর কাজ ধর, ম্যাক্সিমাম হয়ে গেল। দু চারটে মার্ডারের থেকেও সেটা ব্যাপক কাজ দেয়একে বলে শকথেরাপি, খুব কাজের জিনিষ মার্ডার হচ্ছে শেষ কথা, বার বার মার্ডার হলে আতঙ্কের ধারটা ভোঁতা হয়ে যায় তাতে অনেক পাবলিক হেবি বার খেয়ে, খচে গিয়ে আন্দোলন টান্দোলন চালু করে দেয়। মিছিল, মহা মিছিল। ওদিকে অপোনেন্ট পার্টিরাও পেছন থেকে কাটি মারার সুযোগ পেয়ে যায়। এই পাবলিকের উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাটাকেই আমাদের দুমড়ে দিতে হবে। আর সেটার জন্যে এমন আতঙ্ক ছড়াতে হবে, এলাকায় সন্নাটা ছেয়ে যাবে। পাবলিকের আন্দোলন, বিপ্লব-টিপ্লব সব ইয়েতে ঢুকে যাবে। কী বল, পূর্ণ?’  
মনাদা এবার খ্যাঁক খ্যাঁক করে গা দুলিয়ে হাসতে লাগল।
পুলক বুঝতে পারল না, মনাদা ঠিক কী বলতে চাইছে। পুর্ণর মুখের দিকে তাকাল কিন্তু পুর্ণর মুখের দিকে তাকানো আর দেওয়ালের দিকে তাকানো একই ব্যাপার। পুর্ণ মনাদার ছায়াসঙ্গী বডিগার্ড তার ভাবলেশহীন মুখে কোনদিন হাসি দেখে নি পুলক কোনদিন চমকাতে বা অবাক হতে দেখে নিকোন অনুভুতিই নেই মনে হয়পুলক জানে পুর্ণর কোমরে এখনও অন্ততঃ দুটো লোডেড রিভলভার রাখা আছে। আর আছে ভীষণ শীতল ও আবেগহীন দক্ষতা।
‘তাহলে? কী করতে হবে?’
‘দোকান বন্ধ করে ফেরার সময়, জিতেনের মেয়েটাকে ল্যাংটো করে দিতে হবে সকলের সামনে। শ্লীলতাহানি’ এক চোখ টিপে ইশারা করল মনাদা,  চমকে উঠল পুলক।
‘কে করবে?’
‘তুই করবি। আরো তিনজন ছেলে দেব তোর সঙ্গে’মনাদার কথায় নিশ্চিন্ত আশ্বাস, তবু যেন বিশ্বাস হল না পুলকের।
‘কি বলছ, মনাদা। মিঠুনের মার্ডার নিয়েই বিশ বাঁও জলে  – তার ওপর এই কেস? পাবলিক পেলে আমাকে জ্যান্ত রাখবে?’
‘পাবলিক পাবে কেন? কাজটা করেই তুই সরে পড়বি বাজারের পিছনের পুকুরের দিকে। ওদিকটা অন্ধকার থাকে, ওখানে টাকা আর বাইক নিয়ে ওয়েট করবে পুর্ণ, তোকে বাইকে পৌঁছে দেবে বাইপাস পর্যন্ত – বললাম না? পরশু সকালে তো তুই ধানবাদ থেকে পগার পার ইউপির দিকে!’


এই লিংকে ক্লিক করলে বাড়ি বসে পেয়ে যাবেন, "দশে দশ" গল্প সংকলন। 

http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%a6%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%b6/?fbclid=IwAR08yJhrMXE6sQy01kjitrsscUDnSsmbjMU3KaN7ve2CE_T9age-wWiiX08


The Candlelight Protest

1

“Summer is the best time in these parts, isn’t it, Sir? Just look around us, it is now 6:30 p.m.; and the sunlight hasn’t yet vanished. Although the sun has already set, yet myriads of colours in the sky are just a feast for your eyes,” said Dhiren.

Dhiren and I were enjoying the gentle evening breeze at a tea stall run by him, sitting by the riverside.  

Dhiren continued, “If it were the winter, oh my God, by now this place would have been plunged under total darkness. A biting chillness creeping up from the river bed would have swept the place with dense fog for company. People would be shivering even wearing shirts, sweaters and wrappers to keep themselves warm.  Covering themselves up to the head, everyone would have been seated in front of the fire lit from the twigs and logs of trees. None would dare sit outdoors by the riverside… What do you say, Sir, would anyone dare venture out of their homes during the winter months at this hour?”

Dhiren had a habit of talking in a sing-song voice to only a handful of people who cared to listen to him. There is a philosophical touch and a colourful approach to his speech even while he talks about the most mundane things in life. This tea stall owned by Dhiren is a place where I regularly drop in to have a few cups of tea in the evenings when I have nothing much to do in particular. He offers me a wooden bench by the rocky bank of the river; I enjoy a glass of tea made with plenty of milk and sugar and listen to Dhiren and his mutterings. I listen to the gentle waves lapping against the river bank. There is a burning-ghat on the left bank of the river, down to river bed; where the cremators sing in chorus chanting the name of the Lord Hari (Bolo Hari, Hari Bol: Bolo Hari, Hari Bol)... While they mourn the death of their near and dear ones, I get transported to another nameless world immersed in my own thoughts. Amidst such surroundings, I enjoy a great feeling of eternal bliss. Dhiren says, “All these chants originate from the nectar of life.”

While Dhiren talks to me, his face is a picture of umpteen smiles. And when he smiles, his eyes shrink and twinkle and the wrinkles of his face disappear momentarily to radiate boundless joy and happiness. 

Apart from his philosophical chatter and candid smiles, Dhiren possessed a golden heart filled with love and kindness. There was a girl who lived with him, her name was Phooli. She was barely fourteen years old. Fair complexioned with large deep-set eyes, she was quite smart and had an ever-smiling face like Dhiren. She usually helped her father doing lots of odd jobs in the tea stall and whenever I came here and if there were very few customers around, she allowed her father to sit with me and chat. Phooli knew that her father enjoyed a heart to heart talk with me; who else was there as a good listener like me?

Although Dhiren was known to the world as her father, but actually he was not the biological father of Phooli. There is an amazing story behind how Phooli grew up as Dhiren’s daughter. It was Dhiren himself who had told me this secret; I had been utterly taken aback to learn this secret and thereafter my respect for Dhiren only increased manifold with time. I am narrating the story verbatim, exactly what Dhiren had told me a few years ago:

“From early morning that day during the monsoon, it was raining cats and dogs, punctuated by roars of intermittent lightning and howling thunderstorms demonstrating the fury of nature.  The tinned roof of this tea stall threatened to fly off at any moment under the turbulent storm, while the bamboo frames supporting the roof were screeching in unison. With no customers in sight on such a hapless day, I had not earned a single penny and I really started to fear for my life as I was trapped in such a hopeless situation. I decided to down the shutters of the stall as the fire in the earthen oven had by then already been extinguished due to incessant rainfall and dampness in the air. I had not tried to set fire to the oven again. I guess such was the will of the Lord Radhamadhab. When you feel disturbed, you need friends around you. No friends, no companion, no neighbours, even there were no customers throughout the day. I was eagerly waiting for someone to drop in at the tea stall so that I could share my problems with him. A customer is after all a companion also; am I right, Sir? I kept the kerosene stove ready and in case a customer came to the tea stall, I would prepare a hot cup of tea and chat with him for some time. But no one came along.

I am not sure, may be just to test my patience, Lord Radhamadhab made my ordeal much shorter on that day as compared to other days. Under the dark clouds and stormy winds with heavy showers, the day ended abruptly and darkness engulfed the surrounding much before the evening was supposed to arrive.  I downed the shutter of my tea stall and moved to the adjacent room which served as my bedroom. You may not believe it, but Mother Nature was in full fury. It seemed that more than a hundred demons had connived to uproot my stall to wreak havoc and they possessed the might of a crazy herd of elephants. Yes, spectacular lightning bolts lit up the skies in the night and as a thunderstorm made its way across my head for reasons best known to Mother Nature and my Lord Radhamadhab.

I couldn’t predict the exact time of the storm that night as I had no wristwatch. I lit the kerosene stove and I started cooking rice to go with a vegetarian dish. The flame of the stove kept its head down because of the storm brewing outside as gusts of wind rushed into the room through the holes and gaps of the tinned shed. However, after some time the rice started boiling. Have you noticed, Sir, when rice grains are boiling inside the vessel – they talk to each other? They talk about hunger; they talk about happiness and they talk about love. When you are absolutely hungry, what else other than food can vie for your stomach, tell me, Sir?  I really can follow the conversations and smell the aroma of the rice grains. I was listening to their conversation sitting on my cot and was watching the trembling blue flames of my stove. In my heart resided the Lord Radhamadhab and His never-ending miracles. I sat watching; on one side there was the devastating fury of Mother Nature as if to destroy my stall and on the other side, the food had been prepared for me to renew my struggle for survival within the four tinned walls of my crumbling stall.  Isn’t that the greatest puzzle of Lord Radhamadab, Sir?      

Suddenly I heard a faint sound on the door from outside. At first I didn’t understand; I thought it was a sound of the wind rattling against the door. After a while I listened carefully, I heard the feeble voice of a woman, which said, ‘Is there any one inside? Please open the door for once, please.’  And with it there was the sound of the door shaking strongly. I thought that I had been hallucinating. During that terrible night who would come to my door and that too, a woman? I was really scared to death. I thought that it might be some evil spirit; I had heard that it comes knocking at your door, especially on such nights when Mother Nature’s fury is at its worst. Again I thought that if it had indeed come and if it had so wished, it could have easily entered into my room in spite of the feeble door, because, the door was just too weak to keep an evil spirit from entering the room.  Lord Radhamadhab came to my rescue me at last, helped me listen to my conscience. I opened the door. A woman entered the room along with gusty wind and heavy showers. I just saw her for a moment and everything in the room became invisible, as the only kerosene lamp had been extinguished with the wind.

After downing the shutter and searching for the match box, I lit the lamp again and with the darkness gone, I had a glimpse of the woman once again. She was totally drenched by the rain; she wore a sari which was soaking wet and mud plastered on it. Lying on the floor, she looked awful; she was screaming in agony and under her feet, water and blood were flowing freely on the floor. The pregnant woman was about give birth to a baby. I ran across the room. I put down my rice pot and put a tumbler of water to boil on the stove. I was wondering about whom to approach for help and what I should do now. I waited for the water to boil, when I heard the cry of a baby. What a powerful wail that was! There was the roaring storm and rain lashing on the tinned walls, but when the newborn baby wailed, it clearly stood out from the rest. It was the scream of a new life, can anything suppress it, Sir?  I had never married and I  have never had a family of my own. I was just passing through one of most enjoyable moments of my life with the blessings of Lord Radhamadhab, but now I was burdened with a troublesome baby at last! Who else can play such a game with life other than Lord Radhamadhab, tell me, Sir?

On an impulse, I picked up the baby; it was a girl and then I cut off the umbilical cord and separated it from mother. Then I cleaned the baby with hot water and wrapped it with a clean cloth. So far I hadn’t noticed the condition of the mother. When I tried to hand over the baby to her, I felt that she was in a very critical condition. She tried to extend her hands to take the baby, but in vain.  Her eyes were fixed on me, brimming with tears. There was a blissful smile on her pale lips. The pupils were dilated as she tried to look at her baby and she couldn’t keep her eyes open any longer. Within a few moments, her heart had stopped beating and she lay motionless in death.      

Sir, can anyone question the decision of Lord Radhamadhab?  Although I had been desperately looking for someone to talk to, yet I wasn’t prepared for an untoward event like this. I didn’t know where she lived, or where she came from. Neither did I know her, nor did she know me. But she had left for another world leaving behind her daughter in my hands. I was a very poor man struggling hard to eke out a living for myself. I led a simple life by the grace of Lord Radhamadhab. So you can jolly well imagine my dilemma when I was left alone holding this newborn girl in my trembling hands.  Agreed that nothing ominous would happen tonight itself, but from tomorrow morning this newborn baby girl could spell trouble for me. My neighbours and the police would constantly pester me about how I came upon her all of a sudden; none of them would believe me when I tell them the whole truth. When I was racking my brains about how to find a way out of this peculiar problem, the newborn girl made some incoherent sounds as she was wrapped in a bundle of cloth. What she said I couldn’t decipher, for who can understand the words of a newborn baby except the mother? I looked at her face and she was staring at me with her innocent eyes. I didn’t know what was there in that innocent face. I guess the baby trusted me. She was totally dependent on me as there was no one else whom she could turn to. What does a newly born baby expect, staring at the face of a man? It is only the desire to be alive. I loved staring at her face; I embraced her very tightly to my heart. Her little heart was beating against my heart. I thanked Lord Radhamadhab… O Lord, you have tied me up to this unknown little life by a bond of deep love and affection! 

There were lots of procedures, questions and harassments which awaited me from the next day morning onwards. But everything calmed down and subsided within a month or so. The girl has grown up in my custody at this very tea stall. Till today no one has come to me in search of her; neither anyone claiming to become her foster mother, nor any of her relatives. I don’t know to this day where her mother came from, or who her father was. But a very close bond developed between the two of us in no time. Sir, don’t you think that Lord Radhamadhab has been kind enough to shower me with His blessings?” 

I had no answer to what Dhiren asked me. But as I observed Phooli very closely I was more than convinced that she was a very sincere and gentle girl. She skillfully managed all the tasks assigned to her at the tea stall with ease, and, in addition, she took very good care of Dhiren, who was more than a father to her.  In her eyes I found, deep love and care for her father and for the little world around the humble tea stall.

2

I could not keep In touch with Dhiren and his daughter Phooli for long as I had been transferred to another far off town from where they lived. On my return to the place after a promotion in my job and almost a gap of five years, I found a lot of changes had happened. With the passage of time every place undergoes a big change; its population grows, development happens and accordingly the original place seems unfamiliar. Development often changes the inherent character of a place, both physical and moral.

Dhiren and his daughter had been totally blanked out from my mind. They flashed back in my mind once again after I returned to handle the new responsibilities of my job. One evening, as I was taking a stroll by the river bank, I tried locating Dhiren’s tea stall. To my utter surprise, I couldn’t trace it. Plenty of shops and stalls were vying for my attention, but Dhiren’s tea stall had simply vanished into the blue. When I enquired about Dhiren and Phooli, no one seemed to have an answer. A tall man who stood at the entrance of a stall selling lottery tickets looked me in the eye suspiciously and asked me who I was and how I knew Dhiren and her daughter and this and that…. I am a harmless person by nature, so I left the place without replying to him. I went towards the burning-ghat that stood by the northwest direction of the river. It had changed drastically; a newly built temple of Goddess Kali with a staircase and a few other structures which greeted me were completely new to me. I thought that Dhiren’s ramshackle tea stall was not strong enough to withstand the test of time and the power of new age. So, I returned with a heavy heart and forgot about Dhiren and Phooli altogether.

One day I skipped going to the office due to a minor bout cold and fever and had stayed put at my rented house. When I was resting in bed in the afternoon, a voice pleaded, ‘I beg for a few coins in the name of Lord Radhamadhab; can you help me?’ This voice was very familiar to me; it was none other than Dhiren’s. I ran to the balcony, and saw that Dhiren was waiting very hesitantly at my doorstep on the ground floor.  

I called out to him, saying, ‘You are Dhiren, right?’

He lifted his face and looked at me, I could not understand whether he had recognized me or not.

‘Come into the house, I want to talk with you,’ I said as I ran downstairs and asked, ‘Why you are standing outside, do come in. Don’t you recognize me?’

‘Yes, Sir, yes I do,’ Dhiren said.

‘Why are you begging in this way? What happened to your tea stall? Where is your daughter, Phooli now? Do you know that I went to the riverbank in search of your tea stall?  No one could say anything about you.’

Noticing my eagerness and curiosity, Dhiren smiled at me. But this smile was not the one of the Dhiren I had known in those days. It was pale and gloomy.

Dhiren said, ‘It’s a long story, Sir. If you care to listen, I will come again in the evening to tell the whole story.’

‘Well, you must come,’ I said eagerly.

I noticed his body language, it was that of a vanquished man. He turned his back to me while going out of the doorway and said, ‘Will you not give me some money, Sir?’

A few years ago, he was the owner of a tea stall. I was a bit annoyed with his request, but I offered him ten rupees. In reply he said, ‘Thank you, in the name of Lord Radhamadhab.’

3

‘You had gone in search of my tea stall, Sir? How did you find the place? I haven’t gone there for a long time. The people out there threaten me and beat me whenever I go there. Whenever I am there, I remember every single incident that happened there,’ Dhiren said.

Dhiren continued, ‘Fear can make you feel helpless. You may not realize it, but you become spineless. You may continue to do all the work as you did earlier, but the tremor of fear will always echo in your heart. You can’t enjoy your life, if you are in fear. A few people scared us by threatening us and I cowered in their presence.  They used to come to our tea stall and I soon realized that Phooli was their target of lust. They passed lewd comments at her, we ignored them initially. Thereafter, they started groping her and uttered such obscenities which I can’t repeat to you as her father. One day when I protested vehemently, they abused us and told me that I had been pretending to be her father, but actually I wanted to... I can’t utter those words to you, Sir.  They took pleasure at our humiliations, especially when they noticed our frightened faces. There were lot of customers at the tea stall other than those beasts, but they remained silent as if they had not heard or seen anything. From that day onwards, we started to live in mortal fear, thinking that our days were numbered.  

I had the impression that Mother Nature knew no mercy when it came to destruction. But, I was utterly wrong, Sir. The havoc wreaked on man by man is something that belittles the destruction by Mother Nature. Nature’s fury can destroy houses and lives; but it never insults and humiliates you. But, a group of beastly men can do that to you. That’s why nature’s fury can nowhere be compared to the barbarous side of human perversion.

Then what we had feared for quite a few days finally happened on a tragic night...

‘Holi’ had arrived announcing the arrival of spring in our small town. Every year, the festival is marked with increasing splendour as people smear each other in colours of every hue and sprinkle each other with coloured water

Everyone was enjoying the festival, while we had shut the shop earlier than usual in the evening and remained confined to our room in fear. We had finished our frugal dinner and also gone to bed earlier than usual.  It was during the night; I can’t tell you the exact time, five of those hooligans staggered into the room by breaking the door open with crowbars. Every one of them was dead drunk. With a show of their drunken lust, they lifted Phooli on their shoulders to take her out of the room. I tried to protect her, but they thrashed me mercilessly. It was a dreadful pounding; neither could I resist, nor could I bear it for long and I lost consciousness.

When I came back to my senses again, everything around me was calm and quiet. Sir, do you know my first thought after I came back to my senses? I imagined that nothing had happened; it was a simple nightmare. Doesn’t the mind of a destroyed man act in a peculiar way, Sir? Sitting on the floor, observing the condition of the stall, I realized that it was not a nightmare at all. Everything in the stall had been smashed to pieces and the whole place was in a chaos. Where was Phooli? As soon as the thought came to my mind, a chill shivered down my spine. My mind went blank as I stood up ignoring the unbearable pain. At one corner of the tea stall, Phooli’s motionless body lay on two benches put together. She had been lying totally unclothed with her legs spread-eagled. An utterly unbearable sight for me; I quickly covered her with her sari, held her close to my chest. Her heart was beating faintly; I felt her feeble heartbeat close to my heart. 

Dismantling the broken shutter of my shop, I came out in search of a vehicle to shift Phooli to the hospital immediately. It was the dead end of the night. There were several rickshaw vans on the road, but the owners refused to carry us, noticing Phooli’s dreadful condition. Who would be willing to court trouble now-a-days? At last, one of them agreed after I pleaded with him and he took pity on me. When I moved Phooli to the van, I couldn’t feel her pulse and then I noticed that both her hands were broken. They were hanging on the sides, as if they didn’t belong to her!

The resident doctor on-duty and the nurses were fast asleep when Phooli was wheeled into the emergency ward. They were groggy from sleep and were cursing us as we had rudely awakened them from their slumber to attend to a victim. They felt her pulse and announced her dead on arrival and advised me to wait for the doctors of the morning shift to arrive who would guide me through the mandatory steps regarding the case. I waited with Phooli’s dead body.  In the morning the doctors came. They reported about the case to the local Police Station. Policemen reached the hospital and recorded my statement after grilling me for more than three hours. They took Phooli’s dead body for the customary postmortem. After the postmortem, to get back the dead body of Phooli, I had to put my left thumb impressions on so many documents; Oh God, the procedures are so complicated in our country, right Sir? I cremated the body of Phooli at that burning-ghat and returned to my tea stall by the end of the next night. 

Thereafter, I had to visit the police station and attend the court proceedings for hearings and the case dragged on for months, thus I started losing most of my loyal customers who came to my tea stall but found that it was closed most of the time. I passed the days in idle thoughts. It seemed often that I heard the voice of Phooli saying, “Father, here’s the money for four cups of tea.” I had lost my mental balance for some time.  Around that time, those five culprits came to my stall one evening; they abused me, threatened and beat me mercilessly once again. They said that if I ever disclosed their names to the police, they would make sure that I am a dead man. On that very evening I left the tea stall with a few ragged clothes and the money I had saved with me at that time. I left the stall just the way it was.

I took shelter on one side of the railway station and started begging after the money I had saved got exhausted. Now I am fine, Sir. I eat something if I get alms, if I don’t get much, then I just starve for the day.   Barely a few months ago while I was having food at a roadside eatery, I watched the news on TV. A rally had been organized by hundreds of gentlemen from the nearby town; it was a candlelight protest march in tribute to a victim of gang-rape. From that day onwards, I buy one or two candles by saving a part of the alms which I get. I light at least one candle every night near my head before I go to sleep. I stare at the flame of the candle. The flame looks exactly like my Phooli, Sir; timid and helpless as the flame trembles in the breeze and shows signs of getting extinguished by the wind.  My Phooli was also a victim of gang-rape and was killed by those beasts, wasn’t Sir?  

Lowering his head, Dhiren sat there silently for a while. He had lot of queries, but he didn’t bother for the answers. Frankly speaking, what could I say in reply to his questions? So far, no one was there to listen to him; he had everything bottled up in his mind.  After narrating his woeful tale to me, he felt unburdened. He didn’t expect anything from me, because he knew that I was a city-bred gentleman. He had been totally dependent on Lord Radhamadhab throughout his life, but today he didn’t mention the name even once. Today he chants the name of Lord Radhamadhab only when he begs for alms! So, I how could I console him, when he himself has lost confidence on Lord Radhamadhab? I, too remained seated lowering my head.   

‘Goodbye, Sir, it is getting late for you. But may I say something, Sir, before I leave tonight?’ Asked  Dhiren.

‘Yes, certainly,’ I replied.

He dug his hand into the bag hanging on his shoulders and took out a candle and said, ‘Sir, I bought one candle from the money you had given me in the morning. Will you let me light this candle here? Phooli may attain some peace of mind as she used to respect you a lot, Sir.’

I let him have his way. Dhiren lit the candle and set it on the table close to my bed and switched off all the other electric lights in the room.

‘Good night, Sir! Please allow me to leave,’ whispered Dhiren.

Dhiren walked out of the room but I remained seated in my candlelit drawing room basking in its glory for quite some time. It was a night of silent candlelight protest to me.

--**--

অপর্ণা

এই লিংকে ক্লিক করলে বাড়ি বসে পেয়ে যাবেন, "দশে দশ" গল্প সংকলন। 

http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%a6%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%b6/?fbclid=IwAR08yJhrMXE6sQy01kjitrsscUDnSsmbjMU3KaN7ve2CE_T9age-wWiiX08


এই সংকলনের চতুর্থ গল্প "অপর্ণা"-র কিছু অংশ 


.....মিহিন মাটির দুই পরতের পর মসৃণ হয়ে উঠছে প্রতিমার শরীর। পাতলা কাপড়ের ফালিতে নিটোল জুড়ে উঠছে কনুই, কব্জি আর গলার ভাঁজ। নিষ্প্রাণ নিখুঁত মুখ নিয়ে জেগে উঠছে প্রতিমার শরীরি ভাষা। প্রতিমার পীন বক্ষের সুডৌল আদল গড়তে গড়তে মনোতোষ লক্ষ্য করল সিধু একমনে গড়ে চলেছে একটি মেয়ের আর একটি পুরুষের মুখ। কিন্তু ও কার মুখ, কিসের মুখ? মনোতোষ একটু  বিরক্ত হয় –
‘ওটা কার মুখ বানাচ্ছিস রে? মায়ের মুখ বলে মনে হচ্ছে না তো’?

‘মায়ের মুখ বানাচ্ছি না তো মায়ের মুখ না হোক, একটা মেয়ের মুখতো বটে? সব মেয়ের মুখই কি মাদুগ্‌গার পারা হয়’?
‘ও মুর্তিটা আসলে কিসের বল দেখি? মাত্র দুখানা হাত - মা দুগ্‌গা তো নয়, আর এদিকে অসুরের চারখানা হাত? কোন শাস্ত্রে এমনটা আছে আমাকে বল দেখি’
‘সব কি শাস্ত্রে থাকে? শাস্ত্র বানানো হয়েছিল সে কত্তো যুগ আগে! যারা বানিয়েছিল তাদের ঘরে টিভি ছিল, না কোলে ল্যাপটপ ছিল, না কি হাতে ছিল মোবাইল? শাস্ত্র বদলাতে হবে। তুমি এসব বেকার ভাবচো কেন বলো তো, মূর্তিটা বানাচ্ছি আমার নিজের জন্যে’
-‘কাজের সময় অকাজে বেকার টাইম বরবাদ করিস ক্যানো? এখনো কত কাজ বাকি আছে সে খেয়াল আছে, তোর’?
-‘আছে, আছে সব আছে। তুমি টেনসান করো না তো, সব ঠিক ঠাক হয়ে যাবে, সময়মতো’...



এই লিংকে ক্লিক করলে বাড়ি বসে পেয়ে যাবেন, "দশে দশ" গল্প সংকলন। 

http://sristisukh.com/ss_wp/product/%e0%a6%a6%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%b6/?fbclid=IwAR08yJhrMXE6sQy01kjitrsscUDnSsmbjMU3KaN7ve2CE_T9age-wWiiX08


অনেক কিছু পাওয়া







("একপর্ণিকা" ওয়েব ম্যাগাজিনে প্রকাশিত)



তোয়ার ঘুম ভেঙেছে একটু আগে। বাবা মাঝে মাঝে বলেন, ‘আর্লি টু বেড আর আর্লি টু রাইজ, মেক্স আ ম্যান হেলদি এণ্ড ওয়াইজ।’ ক্লাস টুতে পড়া তোয়া ইংরিজি ওই শব্দগুলোর মানে জানে, আর তার ঠাম্মি এ ছড়াটার যে বাংলা করেছে, সেটা আরো বেশী মজার!
‘তাড়াতাড়ি করলে ঘুমু, ঠাম্মা দেবে অনেক চুমু উঠে পড়ো থাকতে ভোর, জ্ঞানের সাথে বাড়ে জোর’

অন্যদিনের মতো আজও খুব সক্কালে ঘুম ভেঙে উঠে তোয়া দেখল মা-বাবা ঘুমোচ্ছেন অন্যদিন ওঁরাও উঠে পড়েন, কিন্তু আজ রবিবার কিনা তাই একটু বেলা করবেন উঠতে  তোয়া ঘুম ভেঙে বিছানায় উঠে বসতেই, খোলা জানালা দিয়ে তার বন্ধুরা ডাকাডাকি শুরু করে দিল। বুলবুলি বলল,
‘তোয়াদিদি, তোয়াদিদি, আজ কিন্তু তোকে, আমি প্রথম ডেকেছি, নতুন আলোর ঝোঁকে’ শালিক যেমন খুব মজা করে, তেমন ঝগড়াও করে, সে বলল,
‘বলতো দেখি তোয়, তোর কী মনে হোয়, কে বেশী হিংসুটি? আমি? না বুলবুল কেলে ঝুঁটি’?
তোয়া মুখে হাত চাপা দিয়ে নি:শব্দে দুলেদুলে হাসল কিছুক্ষণ, তারপর ঠোঁটের ওপর আঙুল রেখে ইশারায় বলল,
‘অ্যাই, অ্যাই, চুপ চুপ, করিস না রে ঝগড়া? মা বাবার ভাঙলে ঘুম সব কিছুতেই ব্যাগড়া’!
খুব আআস্তে আআস্তে বিছানা থেকে নেমে, তোয়া মেঝেয় যেমনি পা দিল, মা আধখানা চোখ মেলে আলসে গলায় বললেন,
‘ছাদে যাচ্ছো যাও, কিন্তু আলসে দিয়ে ঝুঁকবে না’। তোয়া সবসময় দেখেছে ঠাম্মি, দাদুন, বাবাকে ফাঁকি দেওয়া যায়, কিন্তু মাকে – অসম্ভব! মাদুগ্গার মতো তিনচোখ না থাকলেও, মা সব দেখতে পান, সব বুঝতে পারেন। মেঝেয় নেমে মায়ের গালে হামি খেয়ে, তোয়া হাল্কা পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে, বারান্দা পেরিয়ে দৌড়ে উঠতে লাগল সিঁড়ি দিয়ে।

সক্কাল সক্কাল ছাদে উঠতে তোয়ার খুব মজা লাগে। আকাশ জুড়ে নরম নরম আলো। ঝিরঝিরে হাওয়া। চারিদিকের গাছপালার পাতায় পাতায় চলছে রান্নাবান্নার তোড়জোড়। হাতাখুন্তি, বাসনকোসন নাড়াচাড়ার শব্দ শোনার জন্যে সে কান পাতে, কিন্তু শুনতে পায় না। তোয়ার কাকু বলেন,
‘তোর মা, ঠাম্মি রান্নাঘরে, আমাদের জন্যে যখন খাবার বানান, কত রকমের শব্দ হয় শুনিসনি? ঠুনঠান, ঘটরঘটর, ছ্যাঁকতেলতেল ছোঁককলকল’? তোয়া ঘাড় নেড়ে সায় দেয়, শুনেছে তো, সে সময় কী সুন্দর রান্নার গন্ধও বেরোয়, সেই গন্ধে তো তোয়ার লোভ লাগে, খিদে খিদে পায়!
‘একদম সেইরকম, রোদ্দুরের আলোর আগুনে, গাছের পাতার রান্নাঘরে গাছ তার নিজের জন্যে এবং আমাদের জন্যেও খাবার বানায়।’
‘আমাদের জন্যেও?’ অবাক হয়ে বড়োবড়ো চোখে তাকিয়েছিল তোয়া। ‘কই কোনদিন দেখিনি তো?’
কাকু আদর করে তোয়ার রেশমী কোমল চুল এলোমেলো করে দিয়ে হেসে বললেন,
‘ওরা কী আর ভাতডালতরকারি বানায়? ওরা বানায় চাল, গম, ডাল, সব আনাজ, সব রকম ফল - আম, জাম, লিচু, পেয়ারা।’ একটু থেমে কাকু বলেছিলেন, ‘আরো কী জানিস, তোয়ারাণি, আমাদের রান্নায় যেমন সুন্দর গন্ধ হয়, তেমনি মাঝে মাঝে বেশ ঝাঁঝালো গ্যাসও হয়। সে ঝাঁজে নাক জ্বলে, চোখ জ্বলে, হ্যাঁচ্চো হয়। গাছেদের রান্নায় তেমন কোনদিন হয় না।’
‘তাই?’
‘হুঁ। বরং সেই গ্যাসে আমাদের শ্বাস নিতে আরাম হয়, আর সেই গ্যাস বাতাসে যতো বেশি থাকে,  আমাদের শরীরও ততো চাঙ্গা থাকেশহর থেকে দূরে, যেখানে অনেক গাছপালা, সেখানে তাই জোরে জোরে শ্বাস নিতে হয়। এখন তো তুই ছোট্ট, বড়ো হলে জানবি ওই গ্যাসের নাম অক্সিজেন, আর গাছেদের এই রান্নার নাম সালোকসংশ্লেষ।’
কাকু প্রায়ই বাইরে চলে যায়, দুতিন মাস পরপর বাড়ি এসে, দিন দশেক থাকে। তখন তোয়ার জন্যে কিছুমিছু জিনিষ আনেই, আর আনে অনেক অনেক মজার মজার কথা। কাকু ছাড়া তোয়া তখন আর কাউকে চিনতেই পারে না।
সকালবেলা ছাদে উঠলেই তোয়ার কাকুর কথা মনে পড়ে খুব। কাকুর কথা মতো বুক ভরে খুব জোরে জোরে শ্বাস নেয়। আজ তার এই শ্বাস নেওয়া দেখে চড়ুই মিচকি মিচকি হাসল, বলল,
‘ও তোয়াদি, ও তোয়াদি, আর নিও না যেন, বাতাস থেকে ফুরিয়ে যাবে পুরো অক্সিজেন
চড়ুইয়ের এই কথায়, তোয়া এবং অন্য সবাই হেসে ফেলল কিচিরমিচির করে, শুধু কাক গম্ভীর হয়ে বলল,
‘গুডমর্নিং তোয়াদিদি, তোমার আদরে না চড়ুই‍টা খুব ফাজিল হয়েছে, তোমাকেই আর মান্যি করেনা।’
হাসতে হাসতে তোয়া বলল,
‘বারে, আমি বুঝি স্কুলের বড়োদিদিমণি? ভয় পেয়ে বলবে আমায়, “আজ্ঞে দিদি, আপনি?”’ তোয়ার কথায় কাক একটু দমে গেল, কিন্তু অন্যেরা বেশ মজা পেল। তোয়া কাককে আবার বলল,
‘মিষ্টি সুরে বলতে কথা, বলছি কতো বল, তুই শুধুই খুঁজিস দেখি ফাঁকি দেওয়ার ছল।’
কাকটা আরো অপ্রস্তুত হয়ে, একবার ঠোঁট আর একবার ঘাড় চুলকোল, তারপর বলল,
‘কা কা করি, খা খা করি, তার তো থাকে মানে, কাক ডেকেছে মিষ্টিসুরে, এমন কী কেউ জানে?’
কাকের এই কথা শুনে তোয়া হাততালি দিয়ে হাসতে লাগল খুব। আর অন্য পাখিরাও ডানা ঝাপটে ঝটপট বলে উঠল,
‘কাকদাদা গো কাকদাদা, তুমিই হলে সেরা, তোমার কথার সুরটি যেন মিষ্টি মধু ঘেরা’ কথাগুলো বলে ফেলে কাক একটু লজ্জা পাচ্ছিল, কি জানি কী বলে ফেললাম! এখন সকলের প্রশংসায় একটু গম্ভীর হয়ে বলল,
‘তোয়াদিদির ক্লাশে পড়ে শিখছি কত কী যে, কাকের গলায় মিঠে সুর শুনছি এখন নিজে’! তোয়া হাসতে হাসতে বলল,
‘তোদের মতো মিষ্টি ডানা থাকতো যদি মোর, ফুড়ুৎ করে উড়ে যেতাম একটু হলেই ভোর। এদিক সেদিক ঘুরে এসে খেতাম মায়ের বকুনি, বইয়ে ভরা ব্যাগটি পিঠে স্কুল ছুটতাম তখুনি। যা কিছু সব বইয়ে পড়ি দিদিমণির কাছে, উড়ে উড়ে দেখে নিতাম কোনটা কোথায় আছে? সেই কবে তুই খেয়েছিলি কাদের ক্ষেতের ধান, বুলবুলি তোর ঘুঁচলো না দেখ আজও সে বদনাম। কে যেন সে কত আগে দেয়নি বুঝি খাজনা, তোর কথাতেই মানুষগুলো আজও বাজায় বাজনা’। বুলবুলি খুব দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলল,
‘ওসব কথায় দিই না গো কান, তোয়াদিদি বুঝলে, বুলবুলিঝাঁক পাবে না আর ধানের ক্ষেতে খুঁজলে। এখনও তাও উড়ে বেড়াই, দুচারটে বুলবুল, কবে কখন হারিয়ে যাবো, আর পাবেই না বিলকুল।’ তোয়াদিদি বড়ো বড়ো চোখে তাকিয়ে বলল,
‘সত্যি, এমন যদি হয়, মনে ভীষণ লাগে ভয়। আমরা আছি, গাছও আছে, নেই শুধু হায় পাখি, আমাদেরও জীবন দেখিস রইবে আধেক বাকি। সকালবেলার ঘুমটি ভাঙে তোদের ডাকটি শুনে, দুপুর বেলা ঘুম এসে যায় ঘুঘুর সুরের গুণে নিরিবিলি একলা বনেও, সঙ্গী থাকিস তোরা। তোদের পিছু ঘুরে ঘুরে সময় কাটাই মোরা’। তোয়াদিদির এই কথায় টিয়া বলল,
‘তুমি ছাড়া তেমন কেউ দেখেই না গো মোদের ব্যাটারি দেওয়া খেলনা পাখি আছে দেখি ওদের! সে পাখিরা দেখতে যেন, আমরা অবিকল। ঘন ঘন ডিগবাজি খায়, বাপরে কী ধকল! তাদের মধ্যে কেউ কেউ শুনি সুরে বলে ছড়া; হামটিডামটি, জ্যাকএন্ডজিল যেমন তোমার পড়া’। তোয়াদিদি খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল,
‘ধুর ধুর। ওসব দেখে মজা পায় পুঁচকি ছেলেমেয়ে। একটুখানি বড় হলেই, কেউ দেখেও না আর চেয়ে। কলের পুতুল হাতে নিয়ে, কদিন চমক লাগে ঠিকই। কিন্তু রোজই আমি অবাক হই, যত্তো তোদের দেখি’।
‘সে তো তুমি, আমাদের ভালোবাসো বড়োই, রোজই তুমি আমাদের আদর যত্ন করোই। গরমকালে কোথাও যখন, পাই না খাবার জল। আমরা বলি, সবাই মিলে তোয়ার বাড়ি চল। তোমার গামলা ভরা জলে, আমরা আসি দলে দলে। তোমার ওই জলেই আমরা সবাই মেটাই তৃষ্ণা। কিন্তু ওই কাক, যতো বলি, অমন করিস না! শুনবে না, নেয়ে খেয়ে জলটাকে করে তুলবেই ঘোলা’তোয়াদিদি হাসতে হাসতে বলল,
‘কাকের তো নেই কান, থাকলে দিতাম কানমোলা’ কাক ঠোঁট আর ঘাড় চুলকে, একটু মিচকে হাসল, বলল,
‘গরমকালে নোংরা খেয়ে, আনচান করে গা। তোমার রাখা জল দেখে তাই থাকতে পারি না। গামলার জলে কাকচান সেরে বড্ড আরাম পাই, তোয়াদিদি গো, আমার পরে রাগ করতে নাই’। কাকের কথায় তোয়া দুলে দুলে খুব হাসতে লাগল, অন্য পাখিরাও কিচিরমিচিরে ভরে তুলল চারদিক। তোয়া বলল,
‘রাগ করিনি মোটেই আমি, দুষ্টুসোনা কাক, আজ থেকে নয় তোর জন্যে এক উপায় করা যাক। আরেকখান গামলা এনে রাখবো ভরে জল, তখন যেন করিস না আর নতুন কোন ছল’।
চড়াই, শালিক, পায়রা, বুলবুলি, টিয়া সবাই এই ব্যবস্থায় খুব খুশি হল, বলল,
‘তোয়াদিদি, বেশ হবে, মজা হবে, এমন যদি হয়, তেষ্টা পেয়ে কষ্ট তবে হবার কথা নয়’।

কাকের সর্বদাই খিদে পায়। সে যেমন কা কা করে, তেমনি খা খা করে। ভোর থেকে উঠে নোংরা ঘেঁটে, আবর্জনা ঘেঁটে খেয়েছে কিছু মন্দ না, কিন্তু তাও তার আর তর সইছিল না, খিদেয় উড়ুউড়ু করছিল। ঠোঁট ফাঁক করে, দুবার খা খা ডেকে বলল,
‘তোয়াদিদি, তোয়াদিদি এবার আমি উড়বো, কোনখানে কী খাবার পাই সন্ধানে তার ঘুরবো’।
তোয়াদিদি কাকের দিকে তাকিয়ে একটু হাসল, তারপর সবার দিকে তাকিয়ে বলল, 
‘আচ্ছা, আচ্ছা, দুষ্টুসোনা কাক, এখন উড়েই তবে যাক। আমারও নিচের থেকে পড়বে এবার ডাক। আমাদের গল্পগাছা এই অব্দিই থাক। বিকেলবেলা আসিস সবাই একটু পেলে ফাঁক’। টিয়া বলল,
‘ঠিক বলেছ, তোয়াদিদি, সময় হল যাবার, বাসায় আছে বাচ্চা দুটো তাদের জন্যে খাবার, যোগাড় করে নিয়ে যাবো ঘুরে বাদাড়বন, বিকেলে বেলা ফেরার পথে কথা বলব অনেকক্ষণ’। কাক উড়ে গেল বাজারের দিকে, যেখানে অনেক নোংরা আর আবর্জনা জমা হয়, আর টিয়া উড়ে গেল সামনের বিরাট বাগানের দিকে।
ওদের উড়ে যাওয়া দেখতে দেখতে অন্য পাখিরা বলল,
‘তোয়াদিদি তুমিও এবার নিচেয় চলে যাও, মুখটুক ধুয়ে, চটপট করে খাবার খেয়ে নাও। তারপরে তো বসবে খুলে এত্তো এত্তো বই! দুপুর অব্দি তুমি আর সময় পাবে কই? আমরা যে কজন থাকি তোমার আশেপাশে। পড়ার ঘরের জানালায় বসি ঘুরে ঘুরে এসে তোমার দিকে চোখ রেখে কষ্ট যে পাই খুব, লেখায় পড়ায়, নাচে গানে, তোমার ছটা দিনই ডুব’
চড়াই, শালিক, পায়রা বুলবুলি সবাই উড়ে গেল হুশ করে। ওদের উড়ে যাওয়া ডানার দিকে তাকিয়ে তোয়া একটু হাসল, তারপর নিজের মনেই বলল,
‘রবিবারেই মেলে আমার বেশ কিছুটা ছুটি, তোদের কথা শুনতে তাই ভোরবেলাতেই উঠি। তোদের ডানায় পাই রে আমি মুক্ত আকাশ নীল। নিবিড় সবুজ গাছে ঘেরা শান্ত গভীর ঝিল। বদ্ধ মনে ভাসিয়ে আনিস সতেজ মুক্ত হাওয়া। ওইটুকুতেই পাখির ঝাঁক, আমার অনেক কিছু পাওয়া’!


-০০-